Information

মাইগ্রেন কী, লক্ষণ, প্রতিরোধ করার উপায় আছে কি?

মাইগ্রেনের ব্যথা

মাইগ্রেন কি?

মাইগ্রেন হলো একটি তীব্র মাথাব্যথার ব্যাধি যা সাধারণত মাথার একপাশে হয়ে থাকে। এটি একটি জটিল ব্যাধি যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। মাইগ্রেনের ব্যথা সাধারণত মাথায় কম্পন দিয়ে শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে এটি তীব্র হতে থাকে। ব্যথা কয়েক ঘন্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী থাকতে পারে। মাইগ্রেনের সাথে প্রায়শই বমি বমি ভাব, সরাসরি বমি হওয়া, আলো এবং শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি, এবং দৃষ্টি বিভ্রম ইত্যাদি লক্ষন দেখা যায়। সাধারণত ১০ বছর বয়স থেকে মাইগ্রেন হতে শুরু করে। আমরা জীবনের কোন না কোন এক সময়ে এই ব্যথার সম্মুখীন হয়। তাই আজকের আর্টিকেলে আমরা এই ব্যথা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো। দেরী না করে চলুন আমাদের আজকের আলোচনা শুরু করি।

মাইগ্রেনের কারণ

মাইগ্রেনের সঠিক কারণ এখনও পুরোপুরি ভাবে জানা যায় নি। বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে এটি মস্তিষ্কের নিউরনের অস্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপের কারণে হয়। তবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত কারণ গুলো দেখা যায়:

১. পারিবারিক ইতিহাসের কারণে মাইগ্রেন হতে পারে। যদি আপনার পরিবারে কারও ঘন ঘন মাইগ্রেন হয়, তাহলে আপনারও মাইগ্রেন হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

২. মহিলাদের পুরুষদের তুলনায় মাইগ্রেন হওয়ার আশঙ্কা বেশী থাকে।

৩. মাইগ্রেন সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালে শুরু হয় এবং ৩০ বছর বয়সে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

৪. মাসিক, গর্ভাবস্থা, এবং মেনোপজ ইত্যাদি সময়ে হরমোন পরিবর্তনের কারণে মাইগ্রেন হতে পারে।

৫. ঘুমের অভাব বা ঘুমের সময় পরিবর্তন করার ফলে মাইগ্রেন হতে পারে।

৫. চকলেট, আঙুর, পনির, অ্যালকোহল ইত্যাদি কিছু খাবার এবং পানীয় গ্রহণ করার ফলে মাইগ্রেন হতে পারে।

৬. বায়ুচাপের পরিবর্তনের ফলে মাইগ্রেন হতে পারে।

৭. অতিরিক্ত শব্দ এবং আলোর প্রভাবে মাইগ্রেন হতে পারে।

মাইগ্রেনের লক্ষণ

মাইগ্রেনের লক্ষণ ব্যক্তিভেদে বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। তবে নিম্নোক্ত লক্ষণগুলো সবথেকে বেশী দেখা যায়।

১. মাথার একপাশে তীব্র এবং কম্পনশীল ব্যথা।

২. ব্যথা সাধারণত 4 থেকে 72 ঘন্টা স্থায়ী হয়ে থাকে।

৩. ব্যথার সাথে আলো, শব্দ এবং গন্ধের প্রতি সংবেদনশীলতা।

৪. বমি বমি ভাব বা তীব্র হলে সরাসরি বমি হয়ে যেতে পারে।

৫. চোখে ঝাপসা দেখা।

৬. অন্ধকার বা আলোর ঝলকানি দেখা।

৭. মাথা ঝিমঝিম করা।

৮. দুর্বলতা।

৯. অস্পষ্ট কথা বলা।

১০. অসাড়তা বা ঝাঁকুনি।

 

মাইগ্রেনের ব্যথা উপশম করার জন্য ওষুধ

মাইগ্রেনের ব্যথা উপশম করার জন্য ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন। ব্যথানাশক ওষুধের মধ্যে রয়েছে অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন, এবং অ্যাসিটামিনোফেন। এই ওষুধগুলি মাইগ্রেনের ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করে। তবে এগুলি সবসময় কার্যকর হয় না। মাইগ্রেনের ব্যথা উপশম করার জন্য ট্রিপটানস নামক একটি বিশেষ ধরনের ওষুধও সেবন করতে পারেন। ট্রিপটানস মস্তিষ্কে প্রদাহ এবং ব্যথার সংকেত কম সংখ্যক পাঠাতে সাহায্য করে। ট্রিপটানস সাধারণত মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হওয়ার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেবন করা উচিত।

মাইগ্রেন প্রতিরোধ করার উপায়

মাইগ্রেন প্রতিরোধ করার জন্য আপনি বিভিন্ন ধরনের ঔষধ সেবন করতে পারেন। নিম্নে এমন কিছু ঔষধের নাম এবং কাজ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

β-ব্লকার: β-ব্লকার রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তবে এগুলি মাইগ্রেন প্রতিরোধেও কার্যকরী।

অ্যান্টিকনভালসেন্টস: অ্যান্টিকনভালসেন্টস মস্তিষ্কের ইলেক্ট্রোকেমিক্যাল কার্যকলাপকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

অ্যান্টিডপ্রেসেন্টস: অ্যান্টিডপ্রেসেন্টস মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

গর্ভনিরোধক বড়ি: গর্ভনিরোধক বড়ি মহিলাদের মাইগ্রেনের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

 

এছাড়া আপনি প্রাত্যহিক জীবনে কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন এনে মাইগ্রেনের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। নিচে সেগুলো উল্লেখ করা হলো।

১.পর্যাপ্ত ঘুম মাইগ্রেনের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

২. প্রতিদিন ব্যায়াম করলে মাইগ্রেনের সমস্যা অনেকাংশে কমে যায়।

৩. স্ট্রেস মাইগ্রেনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। স্ট্রেস কমাতে যোগব্যায়াম, ধ্যান, বা অন্যান্য শিথিলকরণ কৌশলগুলি ব্যবহার করতে পারেন।

৪. নির্দিষ্ট খাবার এবং পানীয় মাইগ্রেন শুরু করতে পারে। মাইগ্রেন শুরু করে এমন খাবার এবং পানীয়গুলি এড়িয়ে চলতে পারেন।

৫. অতিরিক্ত আলো বা শব্দের সংস্পর্শে না আসার চেষ্টা করবেন।

 

মাইগ্রেন কি প্রদাহের কারণে হয়

মাইগ্রেন একটি জটিল ব্যাধি যার কারণ এখনও পুরোপুরি বোঝা যায়নি। তবে কিছু গবেষণা দেখায় যে মাইগ্রেনের সাথে মস্তিষ্কের প্রদাহ জড়িত থাকতে পারে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে মাইগ্রেন আক্রান্তদের মস্তিষ্কের ঝিল্লিতে প্রদাহের লক্ষণ রয়েছে। অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে মাইগ্রেন অ্যাটাকের আগে এবং পরে মস্তিষ্কের প্রদাহের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।

মাইগ্রেন কি ক্ষতিকর

মাইগ্রেন একটি তীব্র মাথাব্যথার ব্যাধি যা জীবনযাত্রার মানকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। মাইগ্রেন অ্যাটাকের সময় মাথার একপাশে তীব্র ব্যথা হতে পারে। এছাড়াও বমি বমি ভাব, বমি আলো এবং শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিতে পারে। মাইগ্রেন অ্যাটাক দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে যা কয়েক ঘন্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। মাইগ্রেন অ্যাটাকের ফলে কর্মক্ষেত্রে, স্কুলে এবং ব্যক্তিগত জীবনে সমস্যা হতে পারে।

আমাদের আজকের আলোচনা এই পর্যন্তই। আশাকরি মাইগ্রেন সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। এছাড়া এই সম্পর্কে আরোও কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করুন। আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *